Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

চাটগাঁর পশুর হাটে উৎসবের হাওয়া: খামারে বাড়ছে ভিড়, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে মাঝারি গরু

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
চাটগাঁর পশুর হাটে উৎসবের হাওয়া: খামারে বাড়ছে ভিড়, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে মাঝারি গরু

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চট্টগ্রামের পশুর হাট ও দুগ্ধ খামারগুলোতে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার বিশাল আকৃতির গরুর চেয়ে মধ্যম সারির পশুর দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি এবং ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

 পবিত্র কোরবানিকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের এগ্রো ফার্ম (কৃষি খামার) এবং অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ব্যস্ততা বাড়ছে। চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন, ভাটিয়ারী, সাগরিকা, বিবিরহাট, হিলভিউ ও কাতালগঞ্জ এলাকার খামারগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। অনেক ক্রেতা সপরিবারে খামারে গিয়ে পছন্দের পশুটি আগেভাগেই বুকিং (অগ্রিম বুক করা) দিয়ে রাখছেন, আবার কেউ কেউ কিনে খামারেই রেখে যাচ্ছেন ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।

খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার বাজারের চাহিদার ধরনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। বিগত বছরগুলোর মতো বিশাল আকৃতির রাজকীয় গরুর চেয়ে এবার মাঝারি ও সুঠাম স্বাস্থ্যের পশুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ ক্রেতার বাজেট ২ থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। নগরের অক্সিজেন এলাকার শাহ আমানত এগ্রো ফার্মের মালিক নুরুল আলম সওদাগর জানান, খাবারের বাড়তি দাম এবং ক্রেতাদের বাজেট সীমিত হওয়ার কারণে এবার মাঝারি পশুর প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। হিলভিউ এলাকার খামারি আতাউর রহমান এবং সার্ম এগ্রোর মালিক নুরুল আবছারও একই মত পোষণ করে বলেন, 

ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই তারা এবার মাঝারি আকারের পশু বেশি লালন-পালন করেছেন।

অর্থনৈতিক সংকটের ছোঁয়া ক্রেতাদের আচরণেও স্পষ্ট। মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকে এবার কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ করছেন। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবছার এবং বহদ্দারহাটের শহিদুল ইসলাম জানান, সংসারের খরচ বাড়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বাজেট কিছুটা সংকুচিত করে মাঝারি বা ছোট পশু খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতা সরাসরি হাটে না গিয়ে বিশ্বস্ত খামার থেকে অগ্রিম পশু ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

এদিকে, সীমান্ত দিয়ে এবার ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশীয় খামারিরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। অতীতে ভারতীয় গরুর আকস্মিক সরবরাহের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হতো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের। এবার সেই শঙ্কা অনেকটাই কম থাকায় খামারিরা ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কোরবানির পশু বেচাকেনা বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে খামারিরা গরুর লাইভ (সরাসরি প্রদর্শন) বা ভিডিও দেখাচ্ছেন। ফলে প্রবাসী ও কর্মব্যস্ত নগরবাসী ঘরে বসেই দরদাম করে পশু বুকিং করতে পারছেন, যা হাটের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

পশুর সরবরাহ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর জানান, এবার চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকেও পশুর সরবরাহ আসবে নগরের বাজারগুলোতে। পশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ রোধে খামার ও হাটগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি এবং পশুর সুস্থতা যাচাইয়ে প্রতিটি হাটে কাজ করবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম (পশু চিকিৎসকদের দল)। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্টেট অফিসার জাহাঙ্গীর আলমও ক্রেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তদারকি জোরদার করতে নিয়মিত মনিটরিং (নজরদারি) করা হচ্ছে।

তবে শেষ সময়ে অতিবৃষ্টি এবং পরিবহন সংকট নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে চট্টগ্রামে পশু আসার ক্ষেত্রে মহাসড়কের পরিস্থিতি ও আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারপরও সার্বিক সরবরাহ সন্তোষজনক থাকায় এবার বাজার পরিস্থিতি সহনীয় ও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকল মহল।

 কোরবানির হাটের এই পরিবর্তিত চিত্র মূলত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের সীমিত বাজেট, অন্যদিকে পশুখাদ্যের অতিরিক্ত দামের কারণে খামারিদের বাড়তি বিনিয়োগ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে এবার মাঝারি গরুর বাজার জমজমাট। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সীমান্ত পথে অবৈধ গবাদিপশুর প্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন খরচ কমানোর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি। এতে একদিকে ক্রেতারা যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে পশু কিনতে পারবেন, অন্যদিকে খামারিরাও লাভবান হবেন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

চাটগাঁর পশুর হাটে উৎসবের হাওয়া: খামারে বাড়ছে ভিড়, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে মাঝারি গরু

R
Roksana | 25 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার