Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খুলবে বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

Roksana
29 August 2026, 02:00 AM পড়তে ১ মিনিট
চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খুলবে বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ওয়ান-স্টপ (একক স্থান থেকে সব সেবা) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক 'বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরাম'-এর এক জমকালো সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। এই ফোরামে চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং সরকারি নীতি-নির্ধারকেরা অংশ নেন।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।" তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে সরকার ইতিমধ্যেই ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই নতুন সংস্কারের ফলে এখন থেকে নতুন কোনো ব্যবসার অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এর আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেত, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় বাধা ছিল। বর্তমান সরকারের আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে এই দীর্ঘসূত্রতা এখন অতীত।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড (নির্দিষ্ট) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসইজেড (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ে তোলার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর পাশাপাশি মোংলায় দ্বিতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে পারবে। আনোয়ারার এই বিশেষ অঞ্চলটি চালু হলে চীনের বড় বড় শিল্প গ্রুপ সরাসরি বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), উন্নত বস্ত্রশিল্প ও ওষুধশিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময়। এসব খাতে যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নীতিগত সুবিধা, কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) ও আকর্ষণীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বা মুনাফা কোনো জটিলতা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিশ্চিত করবে।

উপস্থিত চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক সাফল্যের অনন্য গল্পে অংশ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে আমাদের এই উন্নয়নযাত্রায় পাশে পেতে চাই।"

উভয় দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশা করছেন, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বিনিয়োগ ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের এক নতুন যুগ শুরু হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

চীনে বিনিয়োগ কার্যালয় খুলবে বাংলাদেশ, বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

R
Roksana | 25 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার