Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত: দেশ, বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ দোয়া

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত: দেশ, বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ দোয়া

রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট (সর্বোচ্চ আদালত) সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই বিশাল জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই চারদিক থেকে দলে দলে সাধারণ মুসল্লিরা ময়দানে আসতে শুরু করেন। তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ এলাকা। এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক।

এদিন সকালের শুরুতেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁরা প্রথম সারিতে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ঈদের এই পবিত্র নামাজ আদায় করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন সদস্য, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই জামাতে অংশ নেন।

ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। খুতবায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক এক তাৎপর্যপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। তিনি পশু কোরবানির পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের ‘মনের পশুকে জবাই’ করার (অহংকার ও কুপ্রবৃত্তি ত্যাগের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি) তীব্র আহ্বান জানান। খতিব বলেন, কেবল রক্ত প্রবাহিত করাই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণই হলো এর প্রকৃত শিক্ষা।

খুতবা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আবেগঘন মোনাজাত। দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো মুসল্লি। মোনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য ও মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।

পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের সংক্রমণে (এক ধরনের সংক্রামক ব্যাধি) আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য এবং মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে উপস্থিত সবার গুনাহ মাফ, মৃত ব্যক্তিদের কবরের আজাব থেকে মুক্তি এবং সর্বস্তরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়।

এ বছর জাতীয় ঈদগাহে বিশাল পরিসরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুরো মাঠে ১২১টি কাতার বা সারি তৈরি করা হয়, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য আলাদাভাবে জায়গা নির্ধারণ করা ছিল। নারীদের পর্দা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা প্রবেশপথ, ওযুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ছিল বিশেষ কাতার। সেখানে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের জন্য সুরক্ষিত জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

জাতীয় ঈদগাহের এই বিশাল প্যান্ডেলের কাঠামো প্রস্তুত করা ছিল এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। পুরো কাঠামোটি শক্তভাবে দাঁড় করাতে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং ১৫ টনের বেশি রশি ব্যবহার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বৃষ্টি বা বিরূপ আবহাওয়া থেকে মুসল্লিদের সুরক্ষার জন্য মাথার ওপর টাঙানো হয়েছিল ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল (বৃষ্টি নিরোধক আচ্ছাদন)। এছাড়া অন্ধকার দূর করে পুরো মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে মুসল্লিদের স্বস্তির জন্য প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত অংশে বিশেষ শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থাও ছিল। মুসল্লিরা যেন আরামে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য ঈদগাহের পুরো মাঠে পরিষ্কার ও নরম কার্পেট বিছানো হয়েছিল।

সুশৃঙ্খল যাতায়াতের জন্য ঈদগাহে প্রবেশের মোট চারটি ফটক বা গেট রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ফটক অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এবং বাকি তিনটি সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতে নামাজ শেষে কোনো ধরনের ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই সহজে এবং নিরাপদে বের হতে পারেন, সে জন্য সাতটি বহির্গমন বা বের হওয়ার পথ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করা হয়।


জাতীয় ঈদগাহের এবারের প্রধান জামাত কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল সাম্য, ঐক্য ও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই কাতারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো প্রমাণ করে ইসলামে কোনো ভেদাভেদ নেই। ফিলিস্তিন ও ইরানের মজলুম মানুষের জন্য যে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে, তা বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। পাশাপাশি ‘মনের পশু’ কোরবানি করার যে আহ্বান খতিব রেখেছেন, তা যদি জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ব্যক্তিগতভাবে চর্চা করা যায়, তবে সমাজ থেকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অহংকার দূর করে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত: দেশ, বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ দোয়া

R
Roksana | 28 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার