দেশের শিল্পখাতকে সচল রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধে তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চড়া সুদ এবং সার্বিক পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে, যা বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত না করলে উৎপাদন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এই খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকলেও অর্জিত হয়েছে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণ প্রদান এবং ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন ডিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রস্তাব দেন তিনি।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান।