আগামী জুলাই মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে নির্ধারিত দরই ১ জুলাই থেকে ভোক্তা (ক্রেতা) পর্যায়ে বহাল থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে (প্রধান নির্বাহী) এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জুলাই মাসের জন্য এই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে জুন মাসের শুরুতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। সেই বর্ধিত দরই নতুন মাসে বহাল থাকছে।
চলতি ২০২৪ সাল থেকে দেশে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (অটোমেটিক প্রাইসিং ফর্মুলা) চালু করে সরকার। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, মার্কিন ডলারের (ডলার) বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), পরিবহন ও বিতরণ ব্যয় এবং বিপিসির লভ্যাংশ বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করার কথা রয়েছে। জুলাই মাসে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে বড় ধরনের কোনো উত্থান-পতন না থাকায় এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে সরকার দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে সাময়িকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ডিজেলের দাম না বাড়ায় পণ্য পরিবহন এবং কৃষি খাতে সেচকাজে নতুন করে অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হবে না। তবে ভোক্তাদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমানে তেলের যে বাজারদর রয়েছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের উচ্চমূল্যের কারণে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গণপরিবহন পরিচালন ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও যাতায়াত ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তেলের দাম না বাড়িয়ে স্থিতিশীল রাখা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিতরণ ব্যবস্থার অপচয় রোধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।