Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জলবায়ু মোকাবিলায় সবুজায়ন ও খাল খনন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

Roksana
29 August 2026, 01:55 AM পড়তে ১ মিনিট
জলবায়ু মোকাবিলায় সবুজায়ন ও খাল খনন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের গৃহীত বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টির যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের নৈতিক দায়িত্ব। বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের (প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য) সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। তাই পরিবেশের সুরক্ষা ও বনায়নকে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সবুজায়নকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিশুর জন্মের ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, "আসুন, একটি নবজাতকের আগমনের পাশাপাশি একটি গাছ রোপণের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রাণকে উদযাপন করি। এভাবে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে হবে।" আগামী পাঁচ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানোর বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বনায়নের ক্ষেত্রে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশ ও মাটির ধরন বুঝে সঠিক প্রজাতির গাছ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণির মতো বিদেশি গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও আমাদের স্থানীয় পরিবেশের জন্য তা কতটা উপযোগী, তা নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এর পরিবর্তে দেশীয় ফলদ, বনজ, ওষুধি, অর্কিড ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে বিদ্যমান প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাহাড় কাটা, বন্যপ্রাণী নিধন এবং সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় বনাঞ্চল ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সবুজ স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম (গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম) চালু করার পাশাপাশি যুব জলবায়ু ফেলোশিপ ও পরিবেশগত নতুন উদ্যোগের জন্য বিশেষ তহবিল (এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ড) গঠন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূরবর্তী কোনো আশঙ্কা নয়, এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রূঢ় বাস্তবতা। বন্যা, অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং নদীভাঙন আমাদের জনজীবন ও অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত বিপর্যস্ত করছে। এই বাস্তবতায় সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

পাশাপাশি, দেশজুড়ে চলমান ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন কর্মসূচি কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করছে। তবে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ছাড়া টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 'থ্রিআর' (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিককে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলে পরিবেশ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

জলবায়ু মোকাবিলায় সবুজায়ন ও খাল খনন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

R
Roksana | 09 July 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার