Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

‘টিকিট পাইনি বলে কি ঈদে বাড়ি যাবো না, তাই ছাদে উঠে গেছি’

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
‘টিকিট পাইনি বলে কি ঈদে বাড়ি যাবো না, তাই ছাদে উঠে গেছি’

আর মাত্র এক রাত পোহালেই সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল শেষ মুহূর্তেও থামেনি; টানা বৃষ্টি আর ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়কে সঙ্গী করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই ট্রেনের ছাদে চেপে বসেছেন বহু মানুষ।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। তবে শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় বুধবার (২৭ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে যে দৃশ্য চোখে পড়েছে, তা এক কথায় অভাবনীয়। বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোর থেকে স্টেশনে ভিড় জমাতে থাকেন হাজারো গন্তব্যমুখী মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নির্দিষ্ট গন্তব্যের ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসামাত্রই শুরু হচ্ছে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি। যে যেভাবে পারছেন, ট্রেনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। দরজায় উপচে পড়া ভিড়ের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে জানালা দিয়ে ট্রেনের ভেতর প্রবেশ করছেন। তবে যারা ট্রেনের ভেতরে কোনোভাবেই জায়গা পাননি, তারা বেছে নিয়েছেন এক ভয়ংকর পথ। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে তারা উঠে পড়েছেন ট্রেনের পিচ্ছিল ছাদে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে কেউ মাথায় ছাতা ধরেছেন, আবার কেউ বড় পলিথিনের চাদরে মুড়িয়ে দল বেঁধে ছাদে বসে আছেন।

নীলফামারীগামী এক যাত্রী নাজিমের সঙ্গে কথা হয় স্টেশনে। ট্রেনের ছাদে কেন উঠেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ঈদে বাড়ি না গেলে কি চলে! টিকিট পাইনি বলে কি ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করব না? কাল ঈদ, তাই যেভাবেই হোক আজ বাড়ি পৌঁছাতে হবে। নিচে জায়গা নেই, তাই বাধ্য হয়েই ট্রেনের ছাদে উঠে বসেছি।"

আসনবিহীন (দাঁড়িয়ে যাওয়ার) টিকিট কেটে বাড়ি ফিরছেন চিলাহাটির যাত্রী জামিল। তিনি বলেন, "অগ্রিম টিকিট পাইনি, তাই দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছি। তবে ভাগ্য ভালো যে আপাতত একটি ফাঁকা আসন পেয়েছি। যাঁর আসন, তিনি এলে উঠে যাবো। এত ভিড়ের মধ্যে যে অন্তত বাড়ির পথে রওনা হতে পারছি, এটাই বড় স্বস্তি।"

এদিকে যাত্রীদের এই ভোগান্তির মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে এই বিলম্ব সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চিলাহাটিগামী 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল পৌনে ১০টা বেজে গেলেও ট্রেনটি স্টেশনেই দাঁড়িয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা পর, সকাল ১০টার দিকে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে।

অগ্রিম টিকিট কেটেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কামাল হোসেন নামের আরেক যাত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আগে থেকে টিকিট কাটা ছিল বলে বসার জায়গা পেতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু ট্রেন ছাড়তে যে তিন-চার ঘণ্টা দেরি হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় কষ্টের। সকাল পৌনে ৭টার ট্রেন যদি ১০টায় ছাড়ে, তাহলে বাড়ি পৌঁছাব কখন? এই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হতে চায় না।"

ঈদের সময় ট্রেনের এমন সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে নীলসাগর এক্সপ্রেসের এক ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (যিনি ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট যাচাই করেন) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি থাকে, তাই কিছুটা সময়সূচি বিপর্যয় ঘটে। ঢাকা থেকে একটি ট্রেন চিলাহাটি পর্যন্ত যাওয়ার পথে অনেকগুলো রেলপথ পারাপার (ক্রসিং) থাকে। সেখানে বাড়তি সময় লাগে। এরপর ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তার স্বার্থে এর ইঞ্জিন ও বগিগুলোর কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এরপর পুরো ট্রেন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ফিরতি যাত্রার জন্য প্রস্তুত করতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। মূলত এসব কারণেই ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে।"

প্রতি বছরই ঈদের সময় কমলাপুর রেলস্টেশনে আমরা এমন অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য দেখে থাকি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আকাঙ্ক্ষা মানুষের এতটাই তীব্র যে, তারা বৃষ্টি ও মৃত্যুর ঝুঁকি তুচ্ছ করে ট্রেনের ছাদে চেপে বসেন। কিন্তু এই আবেগের সুযোগ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে কোনোভাবেই ঢাকা দেওয়া যায় না। পারাপারের বিলম্ব বা পরিচ্ছন্নতার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা প্রতি বছরই শোনা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও যদি উৎসবের সময় অতিরিক্ত বগি বা ট্রেনের ব্যবস্থা করে সময়সূচি ঠিক রাখা না যায়, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ট্রেনের ছাদে যাত্রা যেকোনো মুহূর্তে ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ভবিষ্যতে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

‘টিকিট পাইনি বলে কি ঈদে বাড়ি যাবো না, তাই ছাদে উঠে গেছি’

R
Roksana | 27 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার