দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল সরকারি সদিচ্ছা নয়, বরং ব্যক্তিগত সচেতনতা ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখাই হতে পারে এই মরণঘাতী রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
Body: সম্প্রতি দেশে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কথা গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে না পারলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নানা কারণে এখন ডেঙ্গু কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে সীমাবদ্ধ নেই। এক সময় একে কেবল বর্ষাকালের রোগ মনে করা হলেও এখন বছরের যেকোনো সময় মানুষ এই জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এই পরিবর্তনকে সামনে রেখে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং সচেতনতাকে অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনায় বা বারান্দায় রাখা ফুলের টব, ড্রাম, বালতি কিংবা পরিত্যক্ত টায়ার ও ডাবের খোসায় যেন কোনোভাবেই পানি জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে বাসাবাড়ির ছাদে অনেক সময় অব্যবহৃত জিনিসে পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। পানির আধার বা ট্যাংক (জলাধার) সব সময় ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নিজের ঘর এবং আশপাশ ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
এদিকে মশার উপদ্রব কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার আজ শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে দেশজুড়ে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি পাড়া-মহল্লাকে মশামুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা।
এই অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শনিবারকে যদি আমরা পরিচ্ছন্নতার দিন হিসেবে বেছে নিই এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা অব্যাহত রাখি, তবে ভবিষ্যতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ থেকে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এডিস মশা মূলত স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে, তাই নিজের ঘরকে নিরাপদ রাখা মানেই হলো পুরো সমাজকে নিরাপদ রাখার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিরোধই প্রতিকার থেকে উত্তম।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেখানেই ময়লা বা স্থির পানি দেখা যাবে, সেখানেই ব্যবস্থা নিতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের মাধ্যমে কেবল নিজের নয়, বরং অপরের জীবন রক্ষা করাও সম্ভব। সরকারের পক্ষ থেকে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সতর্কবার্তা এবং দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আইন বা সরকারি নির্দেশনা দিয়ে মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয় যদি না সাধারণ নাগরিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা কেবল সিটি কর্পোরেশনের কাজ নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের সামান্য অসতর্কতা কাল কোনো পরিবারের জন্য বড় ট্র্যাজেডি নিয়ে আসতে পারে। তাই আসুন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখি এবং একটি সুস্থ ও মশামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।