রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চলে আজ রাতের মধ্যে আঘাত হানতে পারে শক্তিশালী ঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, এসব এলাকায় কালবৈশাখীর তীব্রতায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ প্রবল বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশাখী আকাশ যেন ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলাচ্ছে। মে মাসের তপ্ত দুপুরে গুমোট গরমের পর এবার ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশবাসীকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, রাতের মধ্যেই দেশের একটি বড় অংশের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ দিবাগত রাত ১টার মধ্যে দেশের মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে ঝড় ধেয়ে আসতে পারে। এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়ের পাশাপাশি এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যে অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে এই ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে সেগুলো হলো—ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের আশঙ্কায় উক্ত ১০টি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-সতর্ক সংকেত (এটি এমন একটি সংকেত যা নির্দেশ করে যে এলাকাটি একটি মাঝারি ধরনের ঝড়ের কবলে পড়তে পারে, ফলে ছোট নৌযানগুলোকে সাবধানে থাকতে হয়) দেখাতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় নৌপথে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, উল্লেখিত ১০টি অঞ্চল ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানেও পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেসব এলাকার নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। মূলত কালবৈশাখীর এই মৌসুমে আকস্মিক ঝড়ের তীব্রতা বেশি থাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার সাধারণ পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকতে পারে এবং সেখানে দু-এক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের (বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়া) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি খুব একটা কমবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির এক ধরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া চললে দেশের স্থলভাগে এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিকে কালবৈশাখীর স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখলেও বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা এবং বিদ্যুৎ চমকানোর সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে কৃষকদের ফসলি জমি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং নদীপথে যাতায়াতে বাড়তি সাবধানতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা ও বজ্রপাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মে মাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, তা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসাধারণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নদীমাতৃক বাংলাদেশে রাতের বেলায় নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবহেলা করলে বড় ধরণের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। সাধারণ মানুষকে কেবল সংকেত দিলেই হবে না, সংকেতের গুরুত্ব বুঝিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় সচেতনতাই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।