সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজধানী ঢাকাতেও স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরের পর থেকে ঢাকার আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং বিকেল গড়াতেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রাজধানীতে ৫৪ মিলিমিটার (মি.মি.) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে গত কয়েকদিন ধরে চলা ভ্যাপসা গরম থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, রাজধানীতে বৃষ্টির এই ধারা রোববার রাতেও অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সোমবার দুপুরের পর আবারও ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে ঢাকার কিছু নিচু এলাকায় সাময়িক সময়ের জন্য জলজট বা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে দেখা গেছে, যা বিকেলে ঘরে ফেরা কর্মজীবী ও সাধারণ পথচারীদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে। তবে গরম কমে আবহাওয়া শীতল হওয়ায় অনেকেই এই বৃষ্টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে নিয়মিত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে দেশের মধ্যাঞ্চলে এই মৌসুমি বায়ু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় বা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোতে প্রতিদিন টানা বৃষ্টি না হলেও, দুই-একদিন পরপর আকাশ মেঘলা হওয়াসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষাকালের এই সময়ে বৃষ্টিপাত নিয়মিত না হলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে তীব্র ভ্যাপসা গরম বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত দুই দিন ধরে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় এমন গরম অনুভূত হচ্ছিল। রোববারের এই বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া এখন সহনশীল ও ঠাণ্ডা অবস্থায় এসেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আষাঢ়ের এই নিয়মিত বৃষ্টিপাত দেশের কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপকারী, বিশেষ করে আমন ধান রোপণের প্রস্তুতিতে এই পানি কৃষকদের অনেক সাহায্য করবে। তবে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।