বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারত্ব এক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকের শুরুতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে উষ্ণ অভিনন্দন জানায় চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭ অধিবেশনের (সেশন) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এই অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই অনন্য সাফল্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বন্ধু রাষ্ট্রটি।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কীভাবে আরও যুগোপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, বাংলাদেশে বৃহত্তর পরিসরে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সামনে রেখে এই খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে উভয় পক্ষই মনে করে। পাশাপাশি দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির মাধ্যমে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও মজবুত করার বিষয়ে উভয়েই ঐকমত্য পোষণ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতা আরও টেকসই হবে। বিশেষ করে বিনিয়োগ ও কারিগরি শিক্ষার মতো খাতগুলোতে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে আরও লাভবান হতে পারে, সে বিষয়ে এই আলোচনাটি একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরিতে সাহায্য করবে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চীনের সাথে এই গঠনমূলক আলোচনা আগামী দিনে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।