ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেনের যাত্রাবিরতি (স্টপেজ) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনাকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। আজ বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি দাপ্তরিক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এই নির্ধারিত ৩ ঘণ্টা সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় মেট্রোরেল থামবে না এবং কোনো যাত্রী এই স্টেশন থেকে ওঠানামা করতে পারবেন না। তবে লাইনের অন্য সকল স্টেশনে ট্রেন চলাচল এবং যাত্রাবিরতি স্বাভাবিক নিয়মেই চালু থাকবে।
হঠাৎ করে স্টেশনটি বন্ধ করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আসা অনুরোধের কারণেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্টেশনটি ৩ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে, সে সম্পর্কে ডিএমটিসিএল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনটি চালুর পর থেকে এটি প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা, মিরপুর বা মতিঝিল এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই মেট্রো সেবা সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার এই সময়টিতে স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনে ঘরেফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এমন ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ৩ ঘণ্টা স্টেশন বন্ধ থাকার ঘোষণায় অনেকেই কিছুটা বিপাকে পড়েন।
অনেক যাত্রীই পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় স্টেশনে এসে ফিরে গেছেন এবং শাহবাগ বা সচিবালয় স্টেশনে নেমে হেঁটে কিংবা বিকল্প যানবাহনে করে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের যে যাতায়াত বিলম্ব ও সাময়িক ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পুনরায় পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে স্বাভাবিক নিয়মে ট্রেন থামবে এবং যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন।
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় কোনো উৎসব, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ প্রস্তুতি বা বড় ধরনের কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারণে অতীতেও বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম ও চলাচল সীমিত করার উদাহরণ রয়েছে। তবে ঢাবি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্ধের ক্ষেত্রে অন্তত একদিন আগে নোটিশ দেওয়ার এবং কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা, যাতে তারা আগে থেকেই তাদের যাতায়াতের বিকল্প পরিকল্পনা করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল ও জনবহুল এলাকায় মেট্রোরেলের কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। উভয় পক্ষের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়ে থাকে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।