দেশের চিকিৎসা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নাম। গৌরবময় পথচলার ৮০ বছর পূর্ণ করে ৮১ বছরে পদার্পণ করল দেশের ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী কলেজ চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ (ক্যাম্পাস) গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আবাসন সমস্যা দূরীকরণে নতুন পদক্ষেপ:
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মাহেন্দ্রক্ষণকে আরও অর্থবহ করে তুলতে নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেলের (আবাসিক হল) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই আবাসন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে, যা তাদের পড়াশোনার পরিবেশকে আরও উন্নত করবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো দেশের অন্যান্য চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পর্যায়ক্রমে আবাসন সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
তরুণদের সম্ভাবনায় দেশের অগ্রগতি:
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সভায় চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে তরুণদের ভূমিকার কথা গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। দেশের তরুণ চিকিৎসকদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তরুণ চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।
ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় এক উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গণকে বর্ণিল আলোকসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক (ইতিহাসেও) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও চিকিৎসকদের গৌরবময় অবদান রয়েছে। গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তির এই আয়োজন আগামী দিনগুলোতে দেশের চিকিৎসাসেবার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই যুগান্তকারী যাত্রার অংশীদার হতে পেরে আমন্ত্রিত অতিথিরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।