পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত তাজিয়া মিছিলে সব ধরনের ধারালো অস্ত্র বহন, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (২৩ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র মহররম ও আশুরা উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পুরান ঢাকার হোসেনী দালানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এই শোক মিছিলে কোনো কোনো ব্যক্তি দা, ছুরি, কাঁচি, বল্লম, বর্শা, তরবারি এবং লাঠি নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মহররম ও আশুরা একটি গভীর শোকের মাস। এই সময়ে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর মতো আনন্দ প্রকাশমূলক আচার কোনোভাবেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই কারণে তাজিয়া মিছিল শুরুর সময় থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত মিছিলের ভেতরে বা আশপাশে এই জাতীয় বিস্ফোরক ও আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই ১০ মহররম মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতকে স্মরণ করে বিশ্বজুড়ে শোক পালন করা হয়। ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে অত্যন্ত বড় পরিসরে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই বৃহৎ জমায়াতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাজিয়া মিছিলের আয়োজক কমিটিগুলোর সঙ্গে একাধিক সমন্বয় বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে মিছিলের পথ নির্ধারণ এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকা, লালবাগ এবং ধানমন্ডি এলাকার ইমামবারাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি কমিশনার দেশের নাগরিকদের এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।