এইচএসসি (উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর তারা সচিবালয়ের অভিমুখে লংমার্চ (পদযাত্রা) শুরু করেছেন। আজ বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকা ছেড়ে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা হন।
শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও এর আশপাশের সড়কগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর আগে অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে দুপুরের তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজ দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিতকরণ এবং সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড (বিজ্ঞাপনফলক) ও ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সব শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের মিছিলের পেছনে ও পাশে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল থেকে ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’সহ নানা স্লোগান দেন। তাদের এই বিক্ষোভের কারণে সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগমুখী সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে শত শত যানবাহন আটকে থাকে। তবে শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে এবং থমকে থাকা যানবাহন চলাচল সচল হয়।
আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবির মধ্যে প্রথমত রয়েছে—দেশের চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা। দ্বিতীয়ত, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এবং তৃতীয়ত, চলমান সংকট নিরসনে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা চরম মানসিক ও শারীরিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। তাই বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।