আগে কয়েক মিনিটের মধ্যে একবারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস নিতে পারতাম। সেই গ্যাসে সারাদিন নিশ্চিন্তে গাড়ি চালাইতাম। এখন কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেটের ভাত জোটে না, প্রেশার কম থাকায় মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস। মাঝপথে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দূরের কোনো যাত্রী তুলতেও সাহস পাই না।’ শনিবার রাজধানীর মগবাজারের একটি সিএনজি (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা প্রকাশ করছিলেন অটোরিকশাচালক রুহুল আমিন।
শুধু রুহুল আমিনই নন, গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাসসংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার চালক। রাজপথের ফিলিং স্টেশনগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না তারা। এক দিনে দু-তিনবার পাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে চালকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের দৈনিক আয় একধাক্কায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। জমার টাকা পরিশোধের পর দৈনিক বাজার, বাসাভাড়া ও সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অটোরিকশার পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের মাঝপথে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন চালকেরা। বিভিন্ন পাম্পে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ বা ২০০ পিএসআই (চাপ মাপার একক)-এর জায়গায় মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ১০০ পিএসআই, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
হঠাৎ এই তীব্র সংকটের কারণ হিসেবে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-তে (ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পুনর্নবীকরণ ইউনিট) হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে ভাসমান টার্মিনালটি দ্রুত চালু করতে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলা আশ্বাস দিয়েছে, অতি দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শ্রমজীবী চালকদের এই দুর্ভোগ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।