ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারি বর্ষণে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার কারণে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য মতে, বুধবার সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীটির পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার মুখে পড়েছে। বাসাবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে থাকায় সেখানকার সাধারণ মানুষ গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন জানান, তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। উজান থেকে পানির প্রবাহ এভাবে অব্যাহত থাকলে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজান থেকে আসা অব্যাহত ঢল ও বৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বাড়ছে। তিস্তা ব্যারাজ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইস গেট) খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পাউবোর পক্ষ থেকে নদীপাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।