Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দুই আসামিকে ফেরত দিচ্ছে ভারত, হাসিনা-কামালকেও ফেরানোর জোরালো দাবি

Roksana
29 August 2026, 02:03 AM পড়তে ১ মিনিট
দুই আসামিকে ফেরত দিচ্ছে ভারত, হাসিনা-কামালকেও ফেরানোর জোরালো দাবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ রচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ বড় অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও ঢাকার পক্ষ থেকে জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এর আগে মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা দুই দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লির বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের উন্নয়ন এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটিকে পুনরায় সুসংহত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেছে।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যাবাসন। জুলাই বিপ্লবের পর দেশবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন দুই আসামি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তিতে (নির্ধারিত আইনের মাধ্যমে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া) বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে দ্রুততম 

সময়ের মধ্যে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ভারত সরকার আশ্বস্ত করেছে।

আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণের বিষয়টি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ভারতীয় পক্ষকে জানান যে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে এসব শীর্ষ অপরাধীদের ফেরত পাওয়া ঢাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং এক্ষেত্রে ভারত সরকারের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখাও তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ সবার আগে) নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতির মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক হয় এমন সব বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানো। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর আশ্বাস দেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও সহজ করা হবে। বিশেষ করে যারা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক এবং যারা নিয়মিত ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর কাছে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী পুরী এই অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য বড় সুখবর হতে পারে।

তিন দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু সফল দিল্লি সফর শেষে আগামীকাল ৯ এপ্রিল মরিশাসের উদ্দেশে রওনা হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বরফ গলতে শুরু করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


বিগত কয়েক বছরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মাঝে যে একপক্ষীয় নির্ভরতার অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি তা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের সম্মতি আদায় করা কূটনৈতিক পর্যায়ে একটি বড় বিজয়। তবে শেখ হাসিনার মতো বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হতে পারে। ভারত যদি এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করে, তবে তা দুই দেশের নতুন সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। একই সাথে ভিসা জটিলতা নিরসন এবং জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

দুই আসামিকে ফেরত দিচ্ছে ভারত, হাসিনা-কামালকেও ফেরানোর জোরালো দাবি

R
Roksana | 08 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার