দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নয়জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের (জোর করে ঠেলে দেওয়ার) অপচেষ্টা পণ্ড করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসী। শনিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর থেকে ওই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তের দায়িত্বশীল সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের ভাইগড় সীমান্তের বিপরীতে অবস্থিত ভারতের শ্রী রামপুর এলাকার ২৯১ নম্বর প্রধান খুঁটির (পিলার) ২০-এস উপ-খুঁটি দিয়ে নয়জন ভারতীয় নারীকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাতে চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবি ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের অপকৌশল ভেস্তে যায় এবং সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তারা ওই নারীদের নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, "ভোররাতে সীমান্ত পাহাড়ায় থাকা বিজিবি সদস্যদের সতর্কতামূলক বাঁশির শব্দ শুনে আমাদের ঘুম ভাঙে। দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি বিএসএফ কয়েকজন নারীকে বলপূর্বক আমাদের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি দেখে গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়ায় এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আমরা এখনো গ্রামবাসী সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে আছি।"
স্থানীয় কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুকুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে বিএসএফ অন্যায়ভাবে নয়জন নারীকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের সময়োচিত ও সাহসিক প্রতিরোধে সেই চক্রান্ত সফল হয়নি। সকালে সীমান্তের ওপারে বিএসএফের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা ও শঙ্কা তৈরি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ বিষয়ে ভাইগড় সীমান্ত চৌকির (বিওপি) কোম্পানি কমান্ডার টি আলম জানান, ভারত থেকে বেআইনিভাবে নয়জন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের সীমান্তে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে কোনো সীমান্ত অপরাধী বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবির টহল ও নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।