প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক সরকারি সফরে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর তার এই সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম চাঁদপুর সফর।
সফরসূচি অনুযায়ী, চাঁদপুরে পৌঁছানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপথে কুমিল্লায় একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় তিনি স্থানীয় জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। এই পথসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে চাঁদপুর সফর করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর তার এই আগমন দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী চাঁদপুরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। সফর শেষে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সড়কপথেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। তার এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং চাঁদপুর ও কুমিল্লায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বহরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার আগমন উপলক্ষে চাঁদপুর জেলাজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ নির্মাণের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাধারণ মানুষও তাদের প্রিয় নেতার কাছ থেকে স্থানীয় উন্নয়নের নতুন কোনো বার্তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিছক কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর তৃণমূলের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বড় সুযোগ। ২২ বছর আগের সেই সময়ের সাথে বর্তমানের পরিস্থিতির অনেক পার্থক্য রয়েছে। আজকের এই জনসমাগম ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, তা বোঝার জন্য একটি বড় মাপকাঠি হতে পারে। একজন শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা ও তার সমাধানের আশ্বাস প্রদানের বিষয়টি গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও গতিশীল করবে বলেই আশা করা যায়।