ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় অসদাচরণ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একজন কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্য একজনের বেতন গ্রেড (বেতন ধাপ) অবনমন করে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্প্রতি এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রংপুর সদরের সাবেক কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী (অনুলিপিকারক ও এজলাস সহকারী) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বরখাস্তের আদেশ জারির পূর্বে তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসে (ভূমি জরিপ কার্যালয়) কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আসা অনিয়মের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের (ভূমি জরিপ কার্যালয়) রেকর্ড কিপার (নথি রক্ষক) রেজভীন আখতারের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তার বেতন গ্রেডের এক ধাপ অবনমন করা হয়েছে, যা তার কর্মজীবনে পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়, সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। মাঠ পর্যায়ের সেটেলমেন্ট বা জরিপ কার্যালয়গুলোতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় খতিয়ান ও পর্চা সংক্রান্ত বিষয়ে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখতে ভূমি মন্ত্রণালয় সর্বদা বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অবহেলা কিংবা অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।
বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় সেবামূলক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল বা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নামজারি, পর্চা বা খতিয়ান সংগ্রহ এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন ঘরে বসেই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। ডিজিটাল সেবার পরিধি যত বৃদ্ধি পাবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের সাথে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তত হ্রাস পাবে। এর ফলে দুর্নীতি ও হয়রানি অনেকাংশেই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।