Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক: সীমান্তে পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশ রোধে জোর আলোচনা

Roksana
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক: সীমান্তে পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশ রোধে জোর আলোচনা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমানা ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ, জোরপূর্বক পুশ-ইন ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মুখোমুখি বসেছেন।


সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫৭তম এই সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি-র নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (কোনো বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান) মেজর জেনারেল আফরুজ্জামান সিদ্দিকি। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। দুই দেশের সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এই বৈঠক বড় ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, চার দিনের এই সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ভারতীয় নাগরিকদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ প্রতিহত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যদি কোনো ভারত-বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবির প্রতি আহ্বান জানাবে বিএসএফ।

তবে এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় ও স্পর্শকাতর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি নতুন সরকার গঠনের পর সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নীতিতে বড় ধরনের বদল এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিশেষ বিতর্কিত আইন) এর আওতায় পড়েন না এমন প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অনুপ্রবেশকারীকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর সীমান্ত জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, আরও ৮৩৬ জন মানুষকে ভারতের বিভিন্ন আটক কেন্দ্র (অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে বন্দি রাখার জন্য নির্মিত বিশেষ শিবির) বা হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাদের পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা নিয়ে এই মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে কঠোর অবস্থান নেবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের দিক থেকে বেআইনিভাবে লোক পারাপার বা পুশ-ইনের চেষ্টা রুখতে তারা সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহলের পরিধি বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বিএসএফের পক্ষ থেকে চালানো বেশ কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা সফলভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি। উদাহরণস্বরূপ, গত ১ জুন যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু মানুষকে জোর করে বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সীমান্তের শূন্য রেখা (দুই দেশের সীমানার মধ্যবর্তী স্পর্শকাতর রেখা) বা জিরো লাইনে প্রায় ১০ থেকে ১৩ জন মানুষকে অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল। যদিও পরে তীব্র বিরোধিতার মুখে ভারতীয় বাহিনী তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে এই স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুটি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দেশের নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "ভারত যদি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা পাঠায়, তবে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রত্যাবাসন (আইনসম্মত উপায়ে নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া) ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে।" তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা বাংলাদেশ পায়নি বলে তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ কোনোভাবেই অবৈধ উপায়ে পুশ-ইন বা পুশ-ব্যাক সমর্থন করে না এবং যেকোনো ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইনের মতো বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময়ই একটি বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুশ-ব্যাকের যে প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে, তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক পুশ-ইন মেনে নিতে পারে না। দিল্লির এই সম্মেলনে বিজিবির উচিত এই স্পর্শকাতর বিষয়টি বিএসএফের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা। দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তকে প্রকৃতপক্ষেই একটি শান্তিপূর্ণ এবং অপরাধমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে হলে একতরফা পদক্ষেপের পরিবর্তে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক ও আইনি পথ অবলম্বন করাই হবে একমাত্র সঠিক সমাধান।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক: সীমান্তে পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশ রোধে জোর আলোচনা

R
Roksana | 08 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার