Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দেশে ফের ভূমিকম্পের আঘাত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর

Roksana
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
দেশে ফের ভূমিকম্পের আঘাত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর

আবারও ভূকম্পনে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও, চলতি মাসে ঘন ঘন এমন ঘটনা মানুষের মনে নতুন করে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ঠিক ৯টা ২৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারতের মণিপুর রাজ্যে। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৩৬১ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দূরত্বের কারণে রাজধানী ঢাকায় কম্পনের মাত্রা কিছুটা মৃদু হলেও, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ভালোভাবেই ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।

রাতের বেলা হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠায় অনেক স্থানেই মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উঁচু ভবনে বসবাসকারী অনেকেই ভয়ে তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে আসেন এবং খোলা রাস্তায় অবস্থান নেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ভবন ধস, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

চলতি জুনে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলো বাংলাদেশ। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ১১ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে দেশে আরও একবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্যমতে, সেদিনের কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৫। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকা, যা বাংলাদেশের সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত। সে সময়ও সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চলে বেশ তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, যা স্থানীয়দের মাঝে ভীতি ছড়িয়েছিল।

তারও আগে, গত ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। রিখটার স্কেলে ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আরেক প্রতিবেশী দেশ ভুটানে। কম্পনের মাত্রা বেশি থাকায় সেদিন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে এর প্রভাব অনুভূত হয়।

ভূতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এবং কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের (ভূত্বকীয় পাত) সংযোগস্থলে থাকায় এমন ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন প্রায়ই অনুভূত হচ্ছে। ঘন ঘন এই ছোট ভূকম্পনগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। তবে যেকোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভবনের সুরক্ষা এবং জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

দেশে ফের ভূমিকম্পের আঘাত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর

R
Roksana | 19 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার