রাজধানীর অন্যতম প্রধান বিনোদন ও প্রাকৃতিক অক্সিজেন হাব হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডি লেক (হ্রদ) এলাকায় এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে লেক এলাকার ফুটপাত (পথচারী হাঁটার পথ) ও উন্মুক্ত স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী স্থাপনা, টং (অস্থায়ী চায়ের দোকান) ও হকারদের (ভাসমান বিক্রেতা) উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ দখলের দায়ে সংশ্লিষ্টদের জরিমানাও করেছে ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ
আদালত।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারক) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে লেকের সৌন্দর্য নষ্টকারী এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া জনসাধারণের হাঁটার পথ তথা ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে চারটি পৃথক মামলায় মোট ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিলেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ এই লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করতে আসেন। কিন্তু অবৈধ টং দোকান ও ভাসমান বিক্রেতাদের ভিড়ের কারণে হাঁটার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ও নোংরা আবর্জনা লেকের পানিতে ফেলায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল এবং লেকের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম নামের এক নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকারী বলেন, লেকের পাড়ে অবৈধ দোকানপাটের কারণে নারীদের যাতায়াত ও শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে এটি যেন নিয়মিত করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডি লেক হচ্ছে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নান্দনিক স্থান। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে বিশুদ্ধ বাতাসের খোঁজে আসেন। জনসাধারণের স্বাভাবিক যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং লেকের প্রাকৃতিক ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উচ্ছেদ করা স্থানগুলো যেন পুনরায় দখল না হতে পারে, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল একদিনের উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে লেকের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করা সম্ভব নয়। উচ্ছেদের পর অনেক সময়ই দেখা যায় আবারও আগের মতো দোকানপাট বসে গেছে। তাই লেকের সামগ্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে একটি স্থায়ী তদারকি কমিটি গঠন এবং লেকের নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি সম্পদ ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেকের সৌন্দর্য রক্ষায় পর্যায়ক্রমে আরও কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদেরও পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং লেক এলাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।