Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ: ১৯ ঘণ্টা পর ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল তারা

Roksana
29 August 2026, 02:07 AM পড়তে ১ মিনিট
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ: ১৯ ঘণ্টা পর ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল তারা

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করা ১৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র নজরদারির মুখে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা ব্যর্থ হয়।


সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও স্থানীয় জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতায় নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে এক বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, হাপানিয়া সীমান্তের ২৩৮ নম্বর সীমানা খুঁটির নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভারতের ৮৮ নম্বর পান্নাছড়া সীমান্তরক্ষী ঘাঁটির সদস্যরা এই ১৭ জন সাধারণ মানুষকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনুপ্রবেশের শিকার এই দলটির মধ্যে ছিলেন ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন অত্যন্ত ছোট শিশু।

এই ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তে অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের এই কঠোর মনোভাবের কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তের শূন্য রেখায় ফেলে রেখে পাহারা দিতে থাকে। এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায় দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম শনিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনাটির বিস্তারিত নিশ্চিত করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ চেষ্টার খবর পাওয়ার পরপরই ওই সীমান্ত এলাকায় জওয়ানদের টহল ও নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে দিনের বেলা প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ওই অসহায় নারী, শিশু ও পুরুষদের সীমান্তের শূন্য রেখায় সাময়িকভাবে অবস্থান করতে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের কঠোরভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে সীমান্ত জুড়ে এক নাটকীয় ও করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ দিয়ে জানান, রাত ১১টার দিকেও তিনি যখন নিজের জমিতে ধান বহনের বিশেষ গাড়িতে ধান বোঝাই করছিলেন, তখনও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন ছিলেন। এরপর রাত একটার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের সমস্ত অনুসন্ধান আলো (সার্চ লাইট) হঠাৎ বন্ধ করে দেয়। তীব্র অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শূন্য রেখায় থাকা ওই ১৭ জনকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী মাহবুব আরও জানান, ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যাওয়ার সময় ওই অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুরা অত্যন্ত কান্নাকাটি করছিলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের বলপ্রয়োগের মুখে তাদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীরা শূন্য রেখার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে স্থানীয় বাংলাদেশিদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এরপর রাতের আঁধারে তারা ভারতের অভ্যন্তরে মিলিয়ে যায়।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা যদি সময়মতো দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ না করত, তবে হয়তো এই ১৭ জন অসহায় মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সীমান্ত বাহিনীর এই দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে হাপানিয়া সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জওয়ানদের এই দেশপ্রেম ও বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘ এই সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এ ধরনের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সাধারণত ভারতের অভ্যন্তরে বসবাসরত বিভিন্ন বাংলাভাষী বা নাগরিকত্ব সংকটে থাকা লোকজনকে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পার করার চেষ্টা চালানো হয়, যা দুই দেশের সীমান্ত চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আরও জানান, রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার পর বর্তমানে সাপাহার ও হাপানিয়া সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় টহল দিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণকে সীমান্তের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।


নওগাঁ সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর ও অমীমাংসিত চিত্র তুলে ধরে। বারবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অবৈধভাবে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া প্রতিরোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর এই ধরনের আচরণ বন্ধ হচ্ছে না। ১৭ জন অসহায় মানুষকে যেভাবে নারী ও শিশুসহ দীর্ঘ সময় সীমান্তে ফেলে রাখা হলো এবং পরবর্তীতে বলপ্রয়োগ করে কান্নারত অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অমানবিক। এই ধরনের সংকট নিরসনে কেবল সাময়িক প্রতিরোধই যথেষ্ট নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের জন্য উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ: ১৯ ঘণ্টা পর ১৭ জনকে ফ...

R
Roksana | 06 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার