সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার সেবার মান দিন দিন কমছে। পৌরসভার মান তৃতীয় শ্রেণির চেয়েও খারাপ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। সাধারণ জনগণ পৌরসভায় প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গেলে নানা রকমের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পৌরসভাটি, ২০১৭ সালে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত পৌরসভা থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। সান্তাহার পৌরসভা আদমদীঘি উপজেলার পশ্চিম সীমানা এবং নওগাঁ জেলার পূর্ব সীমানা ঘেসে বৃহত্তর সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ১০.৫৪০ বর্গ কিলোমিটার। পৌর মেয়রসহ ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে পৌর পরিষদ গঠিত হয়।
বর্তমানে পৌরসভায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু গত ১৮ আগষ্ট ২০২৪ সালে সারা দেশের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা থেকে জণ-প্রতিনিধিদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে সান্তাহার পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত আনজুম অনন্যা।
সরজমিনে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা যায় অভ্যন্তরীন অনেক সড়ক খানাখন্দে ভরা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক জায়গাতেই একেবারে অকেজো, ফলে অনেক স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, বৈদ্যুতিক খুটিতেই নষ্ট হয়ে আছে আলোক বাতি (প্রায় ৩০% বাতি নষ্ট), পৌর পানি সাপ্লাই ব্যবস্থা নাজুক, পৌরসভা কার্যালয়ে সেবা দানের ব্যবস্থা অত্যন্ত ভোগান্তিপূর্ণ।
এই বিষয়ে চা-বাগান সিভিল কলোনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, অবঃ সহয়োগী অধ্যাপক মর্তুজা সেলিম বলেন, চা-বাগান সিভিল কলোনী’র আবাসিক এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ ফলে প্রায় সময় ড্রেনের পানি উপচে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আমরা এলাকাবাসী একাধিকবার এই বিষয়ে পৌরসভা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও হয়নি কোন সুরাহা।
সান্তাহার পৌর এলাকার বাসিন্দা বাধন হোসেন বলেন, গত এক মাস আগে সান্তাহার পৌর কার্যালয়ে ‘পারিবারিক বার্ষিক আয়ের প্রত্যয়নপত্র’ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন জমা দিলেও একমাস হলো আমার প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপ্রত্র টি হাতে পাইনি এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য গেলে টেকনিক্যাল জটিলতা বলে আমার থেকে কাগজপত্র জমা পর্যন্ত নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সেবা প্রাপ্তির জন্য এখন পৌরসভাতে গেলেই হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার।
তবে জনপ্রতিনিধি থাকার সময় সেবার মান এতটা খারাপ ছিলোনা তখন বেশ ভালোভাবেই পাওয়া যেত কাঙ্খিত সেবা। সান্তাহার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকার ফলে ওয়ার্ডগুলোর অভ্যন্তরীন কাজ করতে আমার একার পক্ষে কঠিন হয়ে পরেছে, তবুও যারা অভিযোগ দিচ্ছেন তাদের কাজগুলো করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স, প্রত্যয়নপত্র, নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট সহ আরও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে তিনি বলেন অনলাইন জটিলতার জন্য কিছুটা সময় লাগছে। বৈদ্যুতিক খুটিতে প্রজ্জ¦লিত আলোক বাতির অনেগুলোই বর্তমানে নষ্ট এই ব্যাপারে তিনি জানান প্রতিটি বৈদ্যুতিক খুটির বাতি জ¦ালাতে গেলে প্রায় দুই হাজার সাতশত বাল্ব প্রয়োজন, বর্তমানে রয়েছে মাত্র আটশত বাল্ব অবশিষ্ট বাল্ব পেলেই প্রতিটি খুটিতেই প্রজ্জ্বলিত হবে বৈদ্যুতিক বাল্ব।