প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম কক্সবাজার সফর। তার আগমনকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে এবং আঞ্চলিক দাবিগুলো পূরণের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সকাল ঠিক ১০টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমান অবতরণের সময় উপকূলীয় এলাকায় চলছিল প্রবল বৃষ্টিপাত। বৈরী আবহাওয়া যেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় বিমান থেকে নেমে তিনি উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের মধ্যে এক ভিন্ন উদ্দীপনা তৈরি করে, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্থানীয়দের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রধানমন্ত্রী তার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন চলমান মেগা (বৃহৎ আকারের) উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর, রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প, বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন এবং পর্যটন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ। এসব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করাই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া, দেশের বৃহত্তম এই পর্যটন কেন্দ্রে তিনি বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এসব প্রকল্প এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সমুদ্র অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা আঞ্চলিক দাবি-দাওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে তারা জোর আশা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।
সরকারপ্রধানের এই সফরকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে কক্সবাজার জেলা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অভূতপূর্ব ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রবেশমুখে নিশ্ছিদ্র তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কক্সবাজারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলে মনে করছেন।