কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়া সফরে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠান বা বিমান সংস্থা ‘এয়ারএশিয়া’র গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বো লিংগাম। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ঐতিহ্যবাহী ও বিলাসবহুল শাংগ্রি-লা হোটেলে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের এভিয়েশন (বিমান চলাচল) খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এ দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল।
আলোচনাকালে এয়ারএশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উদীয়মান এভিয়েশন বাজারে তাদের ব্যবসায়িক পরিধি ও নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে বিমান সেবা বা বাজেট এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নত সেবা দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এ দেশের বিশাল প্রবাসী শ্রমবাজার এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এয়ারএশিয়া তাদের বিমান চলাচল কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে চায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এয়ারএশিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত বিমান সংস্থার বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দেশের বিমান যোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। এটি শুধু দেশের সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের যাতায়াতকেই সহজ করবে না, বরং দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মানোন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়েও বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই কুয়ালালামপুর সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এয়ারএশিয়ার প্রধান নির্বাহীর পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে অবস্থানরত বিভিন্ন বহুজাতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ সরকার বিদেশী বিনিয়োগ সহজ করতে যেসব নীতিগত সুবিধা দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশী বিনিয়োগকে সরকার সবসময় স্বাগত জানায় এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও নীতিগত সহায়তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া সফর ও ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।