রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’-এর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ নগরী হিসেবে পূর্বাচলকে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বুধবার সকালে পূর্বাচল প্রকল্পের সেক্টর-১-এ অবস্থিত রাজউক সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে (কেন্দ্রীয় যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রাঙ্গণ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মো. আলী হোসেন ফকির। এতে সভাপতিত্ব করেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বলেন, বরকাউ police ক্যাম্প চালুর মধ্য দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। পূর্বাচলকে একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ বাসযোগ্য নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এই ক্যাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আইজিপি আরও জানান, পূর্বাচল এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পুরো প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাভুক্ত করে চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে যাতায়াতকারী ও বসবাসকারীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আইজিপি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর রাজউক বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে মোট ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে এই বরাদ্দের মধ্য থেকে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির দাপ্তরিক দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ডিএমপির পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (অতিরিক্ত কমিশনার) নেতৃত্বে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বা পৃথক পুলিশ বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল এলাকার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্যের একটি বড় জনবল কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বাচলে নতুন থানা ও ক্যাম্প স্থাপন প্রকল্পটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং উদ্যোক্তা ও সাধারণ জনগণের মনে সুরক্ষার নির্ভরযোগ্য পরিবেশ তৈরি করবে। প্রাথমিকভাবে যে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে বরকাউ ক্যাম্পটির কার্যক্রম শুরু হলো। অন্য প্রস্তাবিত ‘পশি’ থানা এলাকায় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ক্যাম্পটি আগামী দুই মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজউকের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।