রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাতায় এক শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান নিহত শিশুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি ছিলে নিষ্পাপ, তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখের মণি। তোমার অকাল প্রস্থান হৃদয়বিদারক। এই হায়েনা বা নরপশু হত্যাকারী চিরদিন ধিক্কারের পাত্র হয়ে থাকবে।’ তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করেন এবং তার স্বজনদের এই কঠিন শোক সইবার শক্তি দেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনাটির ভয়াবহতা তখন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় যখন বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আসছেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক সব তথ্য। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না পুলিশকে জানিয়েছেন, জাকির চরম বিকৃত মানসিকতার মানুষ। বিভিন্ন সময়ে সে নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত অমানুষিক নির্যাতন করত। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত জাকির কৌশলে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি আর্থিক লেনদেনকারী দোকানের (বিকাশ এজেন্ট) সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটির মা দরজার বাইরে থেকে কড়া নাড়ছিলেন, অথচ ভেতরে তখন চলছিল এক পৈশাচিক কর্মকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্তের কঠোর বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত জাকিরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কেন এবং কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এই শিশুকে এমন নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
শিশু রামিসার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি হত্যা নয়, বরং আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ দলিল। বিকৃত রুচির মানুষগুলো যে আমাদের আশেপাশেই কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা এবং পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নরপশুর কবলে পড়তে না হয়, সেজন্য বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখাতে হবে।