Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ‘হিট-লিস্ট’ থেকে বাদ পড়লেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা

BNJK
29 August 2026, 01:59 AM পড়তে ১ মিনিট
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ‘হিট-লিস্ট’ থেকে বাদ পড়লেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা

          মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে নিজেদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (হিট-লিস্ট) থেকে সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখতেই ইসলামাবাদ এই নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ আর লাশের সারি, তখন পর্দার আড়ালে চলছে এক জটিল ক্ষমতার খেলা। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিপরীতমুখী অবস্থানে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের মাধ্যমে তেল আবিবকে (ইসরায়েল) অনুরোধ করেছিলেন যাতে ইরানের দুই নীতি-নির্ধারক নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা না হয়।

যাদের ঘিরে এই কূটনৈতিক তৎপরতা, তারা হলেন ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এই দুই নেতার অবস্থান ও গতিবিধি সংক্রান্ত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং তারা তাদের ‘হিট-লিস্ট’ বা হত্যার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। পাকিস্তান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে এই মর্মে সতর্ক করে যে, যদি আরাগচি বা গালিবাফের মতো নেতাদের হত্যা করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে বসার মতো যোগ্য বা নির্ভরযোগ্য কোনো পক্ষ আর অবশিষ্ট থাকবে না। মূলত আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতেই ইসলামাবাদ এই ঝুঁকি নিয়েছে।

ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য পাকিস্তান একটি পছন্দের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে পর্দার আড়ালে আলোচনার প্রক্রিয়াগুলো (প্রসেস) চলমান রয়েছে। পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর একটি ক্ষীণ আশা জাগিয়ে তুলেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে, ইরানি নেতারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতারা জনরোষের ভয়ে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এই আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন স্বয়ং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা কিংবা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করাকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সংলাপ বলা চলে না।” আরাগচি স্বীকার করেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ঠিকই, কিন্তু এখনই কোনো প্রত্যক্ষ সংঘাত নিরসনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই।

 

পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও নেপথ্যের কূটনীতি অনেক সময় বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যদি আরাগচি ও গালিবাফ সত্যিই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু হতেন, তবে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিত। প্রশ্ন থেকে যায়, ইরান কি সত্যিই আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি এই কূটনৈতিক তৎপরতা কেবলই সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল? শান্তির স্বার্থে সংঘাত নয়, বরং সংলাপই হোক আগামী দিনের একমাত্র পথ।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
এশিয়া

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ‘হিট-লিস্ট’ থেকে বাদ পড়লেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা

B
BNJK | 26 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার