দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের সরকারি যানে শোভা পেল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য দেখা যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সম্মুখভাগে গর্বের সাথে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী যখন সাভারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখনই তাঁর গাড়ির স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছিল। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তাঁর গাড়িতে জাতীয় পতাকার ব্যবহার এই প্রথম। পরবর্তীতে সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানেও তিনি জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আজকের এই পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি তাঁর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও মর্যাদার এক আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বীর শহীদদের স্মরণ করেন। এর মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি যানে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা কেবল একটি দাপ্তরিক অনুষঙ্গ নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর
তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে কতটা সুসংহত করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে পতাকাবাহী প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি দেশের আগামীর রাজনীতির এক শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।