Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ফতুল্লায় জ্বালানি লাইনের ফাটল থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: চলে গেলেন দগ্ধ বাবা

Roksana
29 August 2026, 02:12 AM পড়তে ১ মিনিট
ফতুল্লায় জ্বালানি লাইনের ফাটল থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: চলে গেলেন দগ্ধ বাবা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসাবাড়িতে জমে থাকা জ্বালানি গ্যাসের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এদিকে চিকিৎসালয়ের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অবুঝ তিন শিশুসহ তার স্ত্রী, যাদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।


রোববারের এক ভয়াবহ সকাল। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি সাধারণ বাড়িতে তখনো পুরোপুরি সকালের ব্যস্ততা শুরু হয়নি। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন পেশায় সবজি বিক্রেতা কালাম। প্রতিদিনের মতো সেদিনও হয়তো কাজের সন্ধানে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, রান্নাঘরের সামান্য একটি ত্রুটি পুরো পরিবারের জন্য এমন ভয়ানক বিপর্যয় ডেকে আনবে!

বদ্ধ ঘরে জমে থাকা জ্বালানি গ্যাস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে ওই দিন সকালে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি কালাম, তার স্ত্রী সায়মা এবং তাদের তিন শিশু সন্তান। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ঢাকার জাতীয় দগ্ধ ও পুনর্গঠন শল্যচিকিৎসা কেন্দ্রে (বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট) নিয়ে আসেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না কালামের। মৃত্যুর সঙ্গে এক দিন ও এক রাতের কঠিন লড়াই শেষে সোমবার বেলা এগারোটার দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

ওই চিকিৎসালয়ের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান এই মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, কালামের শরীরের পঁচানব্বই শতাংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, চোখের সামনে স্বামীর এমন করুণ পরিণতি ঘটার পর এখন নিজের এবং সন্তানদের জীবন নিয়ে লড়ছেন স্ত্রী সায়মা। বত্রিশ বছর বয়সি এই গৃহবধূর শরীরের ষাট ভাগ পুড়ে গেছে। তার অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। একই সাথে হাসপাতালের যন্ত্রণাদায়ক বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে তাদের তিন আদরের সন্তান। এদের মধ্যে সাত বছরের ছেলে মুন্নার শরীরের ত্রিশ শতাংশ, একই বয়সের মেয়ে কথার বায়ান্ন শতাংশ এবং দশ বছরের বড় মেয়ে মুন্নির পঁয়ত্রিশ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, তাদের কেউই এখনো বিপদমুক্ত নয়।

অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর (ফায়ার সার্ভিস) প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল রান্নাঘরের জ্বালানি সরবরাহের লাইনে থাকা ফাটল বা ছিদ্র (লিকেজ)। রাতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ওই ফাটল থেকে বের হওয়া গ্যাস পুরো ঘরে জমা হতে থাকে। সকালে যখনই আগুনের কোনো সংস্পর্শ ঘটেছে, তখনই ওই জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় ঘুমন্ত বা সদ্য জেগে ওঠা নিরীহ পরিবারটিকে।

দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। একটি মানুষের শরীরের চামড়া যখন অর্ধেকের বেশি পুড়ে যায়, তখন তার বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ হয়ে আসে। কালামের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে। অন্যদিকে, চিকিৎসালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা স্ত্রী ও তিন সন্তানের শারীরিক কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আগুনে পোড়া ঘা এবং তার অসহনীয় তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত পার করছে এই অবুঝ শিশুরা। তাদের ভবিষ্যৎ এখন এক ঘোর অন্ধকারের মুখোমুখি। 

একটি মাত্র দুর্ঘটনা কীভাবে একটি সুন্দর স্বপ্নকে চিরতরে শেষ করে দিতে পারে, এই পরিবারটি তারই এক বেদনাবিধুর উদাহরণ।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ফতুল্লা এলাকায় এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কালামের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ফতুল্লারই আরেকটি বাসায় প্রায় একই রকম দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও জ্বালানি লাইনের ছিদ্র থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে তিন সন্তানসহ এক বাবা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় একই চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরপর দুই দিনে একই এলাকায় এমন দুটি মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।


একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গৃহস্থালি নিরাপত্তায় আমরা কতটা উদাসীন। সামান্য একটি ছিদ্র বা ফাটল যে একটি পুরো পরিবারের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে, ফতুল্লার এই ঘটনা তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাই কি তবে এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী? রাতে ঘুমানোর আগে গ্যাসের চুলা বন্ধ আছে কি না তা যাচাই করা এবং সকালে রান্নার আগে জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আর কত প্রাণ গেলে আমরা নিজেদের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হব?

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

ফতুল্লায় জ্বালানি লাইনের ফাটল থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: চলে গেলেন দগ্ধ বাবা

R
Roksana | 11 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার