বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় কাউন্সিল যত এগিয়ে আসছে, দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলীয় অন্দরমহলে চলছে নানা সমীকরণ। বিশেষ করে, প্রশাসনিক পরিচালনা ও দলীয় সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্বের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
দলীয় সূত্রের খবর, সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চললেও গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখার ঐতিহ্য এবারও বজায় থাকতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন পরবর্তী মহাসচিব পদের দিকে।
আলোচনার শীর্ষে যারা
রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মহাসচিব পদের দৌড়ে বর্তমানে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে:
১. রুহুল কবির রিজভী: দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তার নাম প্রথমার্ধে রয়েছে।
২. সালাহউদ্দিন আহমেদ: জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই অভিজ্ঞ সদস্য সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ। দল ও প্রশাসনের সমন্বয়ের প্রশ্ন এলে তার সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।
৩. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈদেশিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞ এই জ্যেষ্ঠ নেতাও আলোচনায় রয়েছেন।
৪. হাবিব-উন-নবী খান সোহেল: দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তার নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
৫. মীর শাহে আলম: সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী কাজের জন্য সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় তার নামও উঠে এসেছে।
নেতৃত্ব নির্বাচনে দুই সমীকরণ
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের মতে, নতুন মহাসচিব নির্বাচনে মূলত দুটি কৌশল কাজ করতে পারে। প্রথমত, দল ও প্রশাসনের মধ্যে গভীর সমন্বয় রক্ষা করা। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দল ও সরকারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পৃথক রাখা। এমনটি হলে পূর্ণকালীন সংগঠন পরিচালনা করতে সক্ষম এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রেক্ষাপট ও সিদ্ধান্ত
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত বিরতিতে সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা বিলম্বিত হয়। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন কাউন্সিলে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন মুখ আসতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলেই নতুন মহাসচিবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। যোগ্যতার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েই শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।