স্পোর্টস রিপোর্টার : বগুড়া শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে ২০বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও প্রথম ম্যাচ আলোর স্বল্পতার কাছে হেরে গেল। আর ব্যাটে বলের লড়াইয়ে সফরকারী আফগানিস্তান অ-১৯ ডিএলএস মেথডে হারলো ৫ রানে।
ফলে ৫ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের যুবারা এগিয়ে গেলে ১-০তে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি স্পোটিং উইকেট পেয়ে খুশি উভয় দলের খেলোয়াড়েরা। তার প্রমান মিললো দুই দলের দুই ব্যাটারের দূর্দান্ত দুই সেঞ্চুরী। মাঠ ভরা দর্শক জানান দিলো শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের দর্শকেরা বিপিএলসহ আরও বেশি বেশি আর্ন্তজাতিক ম্যাচ চায় এই মাটিতে।
শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে আলোর কাছে পরাজিত আফগান যুবাদের ছুড়ে দেওয়া ২৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২৩১ রান করার পর আলো স্বল্পতায় ডিএলএস মেথডে ৫ রানে জিতলো বাংলাদেশের যুবারা। বাংলাদেশ দলের মিডিয়াম পেস বোলার ইকবাল হোসেন ইমন ৫ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন। আফগানিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ২৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৫ রানে দুই ব্যাটারকে হারিয়ে থমকে যায় যুব টাইগাররা।
৬০ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর গ্যালারী ভর্তি দর্শকরা স্তম্ভিত হয়ে যায়। কিন্তু মিডল অর্ডারে কালাম সিদ্দিকী এ্যালেন এবং রিজান হোসেনের সাহসী ব্যাটিং আবারও দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকে। দুজনের ১৩৯ রানের জুটি শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে থাকা দর্শকদের মাতিয়ে তোলে। দর্শকদের মুহুর্মুহু বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে নেচে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম।
এরই মাঝে সেঞ্চুরী তুলে নেন এ্যালেন। কিন্তু এক রান পরেই ১০১ রান করে এ্যালেন সাজঘরে ফেরার পর আবারও হোঁচট খায় বাংলাদেশ। কিন্তু অপর প্রান্তে রিজান একের পর এক চার মেরে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। অবেশষে ৪৬ ওভার শেষে বাংলাদেশ দলের রান যখন ৪ উইকেটে ২৩১ তখন আলো স্বল্পতায় খেলা শেষ করে দেন আম্পায়ারস দ্বয়। অবশেষে ডি এল মেথডে বাংলাদেশকে ৫ রানে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। রিজান হোসেন অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে। আফগানদের পক্ষে ওয়াহিদুল্লাহ জাদরান ২টি উইকেট লাভ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান যুব দল। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৫ রান করার পর আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত হানে বাংলাদেশ। ৫৬ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। শেষ মেশ মিডল অর্ডার ব্যাটার উজাইরুল্লাহর হার না মানা ১৪০ রানের উপর ভর করে ৯ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে সফরকারীরা। উজারুল্লাহ ১৩৭ বলে ১টি ছক্কা ও ১৬টি বাউন্ডারীতে এই রান করেন।
দলের হয়ে খালিদ আহমাদজাই ৩৪ এবং ফয়সাল সিনোজাদা ৩৩ রান করেন। বাংলাদেশ দলের ইকবাল হোসেন ইমন ৫৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। রিজান হোসেন ২টি, সবুজ ও আজিজুল হাকিম ১টি করে উইকেট লাভ করেন। বাংলাদেশ যুব দলের পেসার ইকবাল হোসেন ইমন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।
ম্যাচ শেষে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার প্রদান করেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও ম্যাচ রেফারি সেলিম সাহেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের ওানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশের যুবারা। ৩১শে অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে। বিনা টিকিটেই দর্শকরা এই ম্যাচটিও দেখার সুযোগ পাবেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেতে সকাল থেকেই দর্শকদের স্রোত নেমে আসে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে। বেলা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দর্শক। ১৮ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামের প্রায় সব গ্যালারী কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এ যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ। কিন্তু ম্যাচের ৪ ওভার বাঁকি থাকতেই আলোর ঘাটতিতে খেলা শেষ হওয়ায় দর্শক হতাশ হয়ে বাড়ী ফেরেন। অনেকে বোতল ছুঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্টেডিয়ামের চারপাশে ফ্লাডলাইটের বিশাল চারটি টাওয়ার দাঁড়িয়ে থাকলেও শুধুমাত্র আলোর অভাবে একটি জমজমাট খেলা বন্ধ হওয়ায় মেনে নিতে পারেননি দর্শক। তারা দ্রুত ফ্লাডলাইট চালুর দাবি জানান।