স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় প্রেমের টানে ঘর ছাড়া গোলাপি বেগমের (২৮) লাশ মিলল মহাসড়কে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টায় শাহজাহানপুর উপজেলার জামালপুর ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক থেকে তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। গোলাপি শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুরা পূর্বপাড়া গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপির প্রথম বিয়ে হয়েছিল শাজাহানপুর উপজেলার জামুন্না সোনাকানিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান নামে এক যুবকের সঙ্গে। তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে শেরপুর পৌরশহরের টাউন কলোনী এলাকার বিবাহিত যুবক ইমনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর গোলাপির পরিবার তাকে উদ্ধার করে ফিরে নিয়ে আসে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার গোলাপিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায় ইমন।
এরপর থেকে গোলাপির বাবার বাড়ির লোকজন তার কোন খোঁজ খবর রাখতো না। গোলাপির চাচা জিয়াউল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর তারা শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকার ফারহান ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। সম্প্রতি ইমন ও তার প্রথম স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গোলাপির সঙ্গে তার বিরোধ বাড়তে থাকে। প্রায়ই গোলাপিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত ইমন।
এই অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আমরা তার লাশ উদ্ধারের খবর পাই। খবর পেয়ে জামালপুরে গিয়ে ইমনকে ফোন দেই কিন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আমাদের ধারনা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড?
হাইওয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ব্যাপারে শাজাহানপুর থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন এ ঘটনায় গোলাপির বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিমুলে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাইওয়ে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে তার ধারণা সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন। ঘটনাটি খুন বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।