Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Roksana
29 August 2026, 02:07 AM পড়তে ১ মিনিট
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব আজ আর কেবল ভবিষ্যতের কোনো শঙ্কা নয়, বরং বিশ্ববাসীর জন্য এক রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করার পাশাপাশি, দেশকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও সংস্কারের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ঘোষণা দিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, অসহনীয় মাত্রার দাবদাহ, সময়ের নিয়ম না মেনে হঠাৎ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘমেয়াদি খরা এবং প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য বা জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়া মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবেশগত ও জলবায়ু সংকটের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বজুড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, কৃষিকাজ এবং খাদ্যের নিশ্চয়তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বের প্রতিটি দেশকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যাপক দূষণের কথা পরোক্ষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে পরিবেশ উত্তপ্তকারী ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণের (বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গমন) ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দায় একেবারেই সামান্য। তা সত্ত্বেও আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল জনসংখ্যার চাপ এবং জলবায়ু-নির্ভর অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশে পরিণত হয়েছে। ‘জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২৬’-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ এখনও এই প্রাকৃতিক বিপদের একদম সামনের সারিতে অবস্থান করছে। সমুদ্রের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়া, ফসলের ফলন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া, নদীভাঙন বা দুর্যোগের কারণে মানুষের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা পদে পদে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তবে এই ভয়াবহ সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, জলবায়ুর এই বিশাল ঝুঁকি সামাল দিতে সরকার ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা’ (পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি সরকারি কৌশল) এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান’ (দূষণ কমানোর বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী নীতি অনুসরণ করে সামনের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ ও বনায়নের মাধ্যমে সুরক্ষা বলয় তৈরি, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, জলবায়ুর কারণে গৃহহীন হওয়া মানুষদের নতুন করে বাঁচার ঠিকানা করে দেওয়া এবং প্রকৃতির নিজস্ব উপাদানের সাহায্যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা বাড়াতে সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি মহা-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, শহরের জলাবদ্ধতা দূর করা এবং পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল নতুন করে খনন ও সংস্কার করার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় নিশ্চিত করেন। এটি সফল হলে দেশের কৃষিতে সেচের পানির যেমন অভাব হবে না, তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হবে।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, পরিবর্তিত ও বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে—এমন ফসলের জাত উদ্ভাবন, নিবিড় গবেষণা, কৃষকদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কৃষি সম্প্রসারণের কাজগুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পরিবেশ দূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন—সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ) ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা ও শহর গড়ে তোলা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর নজর দেওয়ার কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার (দূষণ কমানোর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বৈশ্বিক ব্যবস্থা) থেকে দেশের জন্য ন্যায্য সুবিধা আদায়ের বিষয়েও সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব শ্রেণির মানুষকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টা, পরিবেশ সম্পর্কে গভীর সচেতনতা এবং একটু দায়িত্বশীল আচরণ করলেই একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা পুরোপুরি সম্ভব। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সহযোগী সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।


জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল পাঠ্যবইয়ের কোনো অধ্যায় বা অভিজাত সেমিনারের আলোচনা নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার এক নিরন্তর লড়াই। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পৃথিবীকে বাঁচানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খননের মতো সরকারি উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় ঘোষণাই শতভাগ সফল হতে পারে না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং চারপাশের পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন হওয়া। প্রকৃতির প্রতি আমরা আজ যে নির্দয় আচরণ করব, আগামী দিনের পৃথিবী আমাদের ঠিক সেই ভয়াবহ প্রতিদানই ফিরিয়ে দেবে। তাই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কেবল সরকার নয়, ব্যক্তি পর্যায় থেকেও এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

R
Roksana | 05 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার