Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

বিষাদে রূপ নিল ঈদযাত্রা: টাঙ্গাইলে মালবাহী গাড়ি উল্টে ১৫ হকারের করুণ মৃত্যু

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
বিষাদে রূপ নিল ঈদযাত্রা: টাঙ্গাইলে মালবাহী গাড়ি উল্টে ১৫ হকারের করুণ মৃত্যু

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে একবুক আশা নিয়ে পথে নেমেছিলেন একদল খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু তাদের সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই মালবাহী গাড়ি (ট্রাক) উল্টে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন ফেরিওয়ালার, যাদের সবার গন্তব্য ছিল উত্তরবঙ্গের পানে।


জীবিকার তাগিদে বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবার থেকে দূরে কাটান নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। উৎসব এলেই শত কষ্ট উপেক্ষা করে নাড়ির টানে তারা ছুটে যান আপনজনদের কাছে। তেমনি এক আনন্দময় অনুভূতির প্রত্যাশা নিয়ে চট্টগ্রাম ও ফেনী থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন একদল কর্মজীবী মানুষ। তারা পেশায় মূলত হকার বা ফেরিওয়ালা, যারা পথে পথে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সামান্য কিছু টাকা বাঁচানোর আশায় খোলা মালবাহী গাড়িতে করে তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ১৫টি তাজা প্রাণ।

সোমবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এলেঙ্গা দমকল বাহিনীর (ফায়ার সার্ভিস) ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, মালবাহী একটি বড় গাড়ি রড বোঝাই করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ জনের প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া গুরুতর আহত দশ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রে (জেনারেল হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানা না গেলেও, দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া রাব্বানি নামের এক যাত্রী জানিয়েছেন তাদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, ওই গাড়িতে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তারা চট্টগ্রাম ও ফেনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রসাধনসামগ্রীসহ নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতেন। ফেনী থেকে প্রায় ১৮ জন একসঙ্গে এই গাড়িতে উঠেছিলেন, পথে ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকে আরও কয়েকজন যাত্রী তাদের সঙ্গে যুক্ত হন।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে আরেক বেঁচে যাওয়া যাত্রী শিউরে ওঠেন। তিনি বলেন, "আমরা সবাই গাড়ির ভেতরে ছিলাম, ওপরে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন দেওয়া ছিল। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই গাড়িটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে কেবল আর্তনাদ আর হাহাকার শুরু হয়। কীভাবে কী ঘটল, কেউ বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় আমি ছিটকে বাইরে পড়ে যাই, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে তাই বেঁচে গেছি। কিন্তু চোখের সামনে দেখলাম আমার আত্মীয়সহ বাকিরা রডের নিচে চাপা পড়ে আছে।"

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে যাত্রীদের ধারণা, চালক হয়তো দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর কারণে চলন্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্রটি (ব্রেক) হঠাৎ বিকল হয়ে গিয়েছিল। এই কারণেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। ঘটনার পরপরই সুযোগ বুঝে চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়। শুরুতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে রডের নিচ থেকে মরদেহগুলো বের করে আনেন।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে বর্তমানে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান জানান, নিহতদের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি পণ্যবাহী খোলা গাড়িতে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন বন্ধের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


উৎসবের মৌসুমে গণপরিবহনের তীব্র সংকট এবং ভাড়ার আধিক্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রায়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী গাড়িতে যাতায়াত করেন। টাঙ্গাইলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আইনের প্রয়োগ কতটা জরুরি। মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, মহাসড়কগুলোতে এর অবাধ চলাচল প্রশাসনের নজরদারি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। কেবল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই টনক নড়া নয়, বরং বছরজুড়ে এবং বিশেষ করে ঈদের আগে মহাসড়কগুলোতে কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে উৎসবের আনন্দ বারবার এমন বিষাদের কান্না হয়েই সাধারণ মানুষের জীবনে ফিরে আসবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

বিষাদে রূপ নিল ঈদযাত্রা: টাঙ্গাইলে মালবাহী গাড়ি উল্টে ১৫ হকারের করুণ মৃত্যু

R
Roksana | 25 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার