ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অবিশ্বাস দূর করে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মূল্যায়ন তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাঁকিবাজি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপভিত্তিক নজরদারি চালুর পাশাপাশি মেধার ভিত্তিতে ১৮ হাজার কর্মী নিয়োগের বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা দীর্ঘদিনের। অতীতের অনিয়ম ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি ভেঙে জনগণের আস্থা ফেরাতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্প্রসারণ, ১ হাজার ২৮৬টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রবাসী ও স্থানীয়দের জন্য সার্বক্ষণিক কল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিগগিরই ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামের একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) চালু করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ (জিও-ফেন্সিং) প্রযুক্তির এই অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কখন অফিসে প্রবেশ করছেন কিংবা বের হচ্ছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে এই প্রযুক্তি চালু হচ্ছে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কয়েকজন জেলা প্রশাসককেও সতর্ক করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজের তদারকি বাড়াতে দেশের ৩৫০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে নিজ এলাকার ভূমি অফিসগুলো পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি জানান, পূর্বের স্বজনপ্রীতি ও বংশানুক্রমিক নিয়োগপ্রথা ভেঙে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কেবল ১২৬ টাকার আবেদন ফি দিয়ে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন। বিগত ছয় মাসে বিভিন্ন সংস্থায় ১ হাজার ২৪০ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ের শূন্য পদ পূরণে ধাপে ধাপে মোট ১৮ হাজার দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তিকে মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী জানান, এসিল্যান্ড ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট দ্রুত দূর করতে সরকার কাজ করছে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ভূমি সেবাকে শতভাগ জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।