টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বড় অংশ জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া কখনো মুষলধারে, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও আজিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক বিপর্যস্ত চিত্র। নিউমার্কেট এলাকার সবকটি সড়ক এখন পানির নিচে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে আজিমপুর কবরস্থান হয়ে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা জলমগ্ন। পানি ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও।
নিউমার্কেট সংলগ্ন কলেজ এরিয়ার একটি আবাসিক ভবনের তত্ত্বাবধায়ক জামাল উদ্দিন মুঠোফোনে বাড়ির মালিককে বলছিলেন, “বানের স্রোতের মতো বাড়িতে পানি ঢুকছে। পানির পাম্প (মোটর) আর ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংকে ময়লা পানি ঢুকে গেছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।” পরে দেখা যায়, স্যানিটারি মিস্ত্রি ডাকার আগেই পানির ট্যাংকটি পুরোপুরি ডুবে যায় এবং পাম্প নষ্ট হয়ে পড়ে। এতে ওই ভবনের বাসিন্দাদের রান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছরই সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়, কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই সব ডুবে যায়। আমরা নিয়মিত কর (ট্যাক্স) দিয়েও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না।
ভোগান্তির এই চিত্র শুধু আবাসিক এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্যবসায়ীদের কপালে এনে দিয়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, সকাল থেকে দোকান খুলে বসে থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতা নেই, ফলে একটি টাকাও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না।
এদিকে মিরপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোডসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার চিত্র একই রকম। মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন মাঝপথে বন্ধ হয়ে বিকল হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন কম থাকায় অফিসগামী মানুষকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, অনেককে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শুধু রাজধানীই নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন পানির নিচে, যেখানে বন্যাজনিত কারণে ইতিমধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতেও লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।