সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের দায়ে ভোলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। নাগরিক অধিকার হরণ ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেত্রীরা।
ভোলা জেলার বাসিন্দা বিবি সাওদা (৩৭) নামে এক নারীকে গত ৫ এপ্রিল রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন। এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে অনেকেই একে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার আদালত ওই নারীকে জামিন দিলেও তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি এখনো বহাল রয়েছে। এরই প্রতিবাদে বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। মানববন্ধনে বক্তারা বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার হরণের একটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
জামায়াতের মহিলা শাখার নেত্রীরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ভোলার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে দেশে বর্তমানে ভিন্নমত পোষণ করা বা গঠনমূলক সমালোচনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁরা মনে করেন, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা এখন গভীর সংকটের মুখে। সরকার যদি সাধারণ মানুষের সাধারণ ক্ষোভ বা সমালোচনাকে মামলা-হামলার মাধ্যমে দমনে সচেষ্ট হয়, তবে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আদালত ওই নারীর জামিন মঞ্জুর করায় তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানালেও, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি মামলায় তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। তাঁরা অবিলম্বে বিবি সাওদার বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে সরকারকে আরও উদার ও সহনশীল হয়ে জনগণের গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উপস্থিত বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এভাবে নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেবে। তাঁরা দেশের সকল সচেতন নাগরিককে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের সমালোচনা বা ভিন্নমত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের দায়ে কোনো নাগরিককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার বা মামলার মুখোমুখি করা কি তবে ভীতির সংস্কৃতি তৈরির প্রয়াস? আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়া ইতিবাচক হলেও, শুরুতেই হয়রানি এড়ানো গেলে তা আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিত। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের ভারসাম্য রক্ষাই এখন সময়ের বড় দাবি।