সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা সমঝোতা বা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ (মক্কা প্যাক্ট) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় জামায়াত আমির এই প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।’
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামি সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এই যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ বহিরাগত হামলার শিকার হলে, তা জোটভুক্ত সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি ঢাকা আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের মধ্যেই প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই প্রকাশ্য বক্তব্য দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে একটি দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।