Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যু

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়জন নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রসবোত্তর কক্ষে (যেখানে সন্তান জন্মের পর মা ও শিশুকে একসঙ্গে রাখা হয়) ঘটা এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো হাসপাতালজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ত্রুটি থেকে নির্গত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি।

বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালটির মহাপরিচালক (হাসপাতাল ও নার্সিং) অধ্যাপক চিকিৎসক নাহিদা ইয়াসমিন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর মায়েদের বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত কক্ষে থাকা অবস্থায় এই ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে এক রাতের ব্যবধানে ফুটফুটে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেল, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই।

অন্যদিকে, এক নিমেষে সন্তান হারানো মা-বাবা ও স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তাদের তরফ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নবজাতকদের নির্ধারিত কক্ষে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র থেকে বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। আর সেই গ্যাসে দম বন্ধ হয়েই নিষ্পাপ নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের এই দাবির বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

পরবর্তীতে দুপুরে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে অধ্যাপক চিকিৎসক নাহিদা ইয়াসমিন ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, যে কক্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে ১১ জন প্রসূতি মা এবং ৬ জন নবজাতক ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর মা ও শিশু এবং তাদের দেখভালের জন্য সঙ্গে একজন করে স্বজন সেখানে অবস্থান করেন।

তিনি আরও জানান, নবজাতকরা তাদের মায়ের পাশেই শুয়ে ছিল। রাতে হঠাৎ করে মায়েরা শীত অনুভব করায় কর্তব্যরত সেবিকাদের ডেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি বন্ধ করতে বলেন। এরপর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুজন নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (যেখানে গুরুতর অসুস্থ নবজাতকদের বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হয়) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুদের অবস্থা স্বাভাবিক দেখে পুনরায় মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু আসল বিপত্তি ঘটে ভোরের দিকে। সকাল ছয়টার দিকে মায়েরা আবারও সেবিকাদের জানান যে, শিশুদের খুবই অসুস্থ মনে হচ্ছে এবং তারা অস্বাভাবিক আচরণ করছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তখন ছয়জন নবজাতককেই একসঙ্গে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেখানে নেওয়ার পথেই দুজন নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বাকি চার শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্রের সহায়তায় বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়, একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বাকি চার শিশুও।

একসঙ্গে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে নীরব থাকেন চিকিৎসক নাহিদা ইয়াসমিন। তিনি এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা এরই মধ্যে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসকদের নাকের ডগায় একসঙ্গে ছয়টি নবজাতকের মৃত্যু কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। এটি কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—তা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নবজাতকের মতো স্পর্শকাতর প্রাণ যেখানে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই যদি এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয়, তবে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর কীভাবে ভরসা করবে? স্বজনদের তোলা অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে এটি সুস্পষ্ট গাফিলতি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো মায়ের কোল এভাবে অযাচিতভাবে খালি না হয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
জাতীয়

মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যু

R
Roksana | 27 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার