রাজধানীর ব্যস্ততম মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একাধিক বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর এসব বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার সময় পুরো মতিঝিল এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বোম্ব ডিসপোজাল টিম) ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অন্তত দুটি বোমা সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করে। শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম।
পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর বিপজ্জনক বস্তু
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার বিবরণে জানান, শুক্রবার রাত ৭টার পর পুলিশের কাছে খবর আসে যে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি সন্দেহভাজন বস্তু পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতা দেখতে পায়। পরবর্তীতে ছাতাটি পরীক্ষা করে তার ভেতরে বিপজ্জনক ও বোমা সদৃশ বস্তুর উপস্থিতি পাওয়া যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সিটিটিসির বিশেষ বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়া শুরু করে।
উদ্ধার করা বোমায় মিলল ডেটোনেটর
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, নিষ্ক্রিয় করা বস্তুর ভেতরে ডেটোনেটর (বিস্ফোরণ ঘটানোর বিশেষ যন্ত্র) এবং উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক দ্রব্যাদির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কে বা কারা জনবহুল এই স্থানে ছাতাটি রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে এগুলো কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা জোরদার
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সম্পূর্ণ এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। দুষ্কৃতকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রমাণের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও মেট্রোরেলের যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সময়মতো বস্তুগুলো চিহ্নিত ও ধ্বংস করার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার নেপথ্যে জড়িতদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।