রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার কলমিলতা বাজারে মঙ্গলবার ভোরে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের নিরলস পরিশ্রমে সকাল সাতটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। খবর পাওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে পরবর্তীতে তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরও সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। সব মিলিয়ে মোট ১০টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যৌথ সহায়তায় ভয়াবহ এই আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কলমিলতা বাজারের নিচতলায় কাঁচাবাজার ও কসাইখানা রয়েছে। আর ওপরের তলায় রয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের দোকান ও সার্ভিস সেন্টার। আগুনের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ডাম্পিং (ভেতরে জমে থাকা তাপ বা ছোট আগুনের উৎস নিভিয়ে ফেলা) প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে জানানো হবে।
তবে আশার কথা হলো, জনবহুল এই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় মানুষজনের আনাগোনা কম থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ভোরের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়ায় বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকাটি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল।
রাজধানীর বাজারগুলোতে ঘনঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়মিত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। কলমিলতা বাজারের মতো জনবহুল স্থানে আগুন লাগার কারণগুলোতে প্রায়ই বৈদ্যুতিক গোলযোগ অথবা অসতর্কতাকে দায়ী করা হয়। আমাদের বড় শহরগুলোর বিপণিবিতানগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কেবল অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর না করে, প্রতিটি মার্কেটেই যদি নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল থাকে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।