দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ক্রমবর্ধমান ঘটনাকে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, কেবল আইনি পদক্ষেপ দিয়ে এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বরং এগুলো দীর্ঘদিনের সামাজিক অবক্ষয়, দায়িত্বহীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম পতনের ফসল। সমাজ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবই অপরাধীদের সাহসী করে তুলছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সরকার কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের একার পক্ষে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষাঙ্গন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শিশুদের মানবিকতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে শিশুদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি নিরাপদ না থাকে, তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। তিনি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৈতিকতার এই সংকট নিরসনে সামাজিক সংস্কার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম এখন সময়ের দাবি। দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজের সন্তান বা স্বজনের নিরাপত্তার মতো করেই অন্যের শিশুদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি তার বার্তায় প্রতিটি স্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যদি আজ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তবে সেটি হবে পুরো জাতির জন্য লজ্জার। সামাজিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি অবস্থান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ের এক জ্বলন্ত সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। আমরা যখন উন্নয়ন ও প্রযুক্তির দিকে ছুটছি, তখন মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরের মূল্যবোধগুলো কেন এত দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে? শিশু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় কমে গেছে এবং মানবিক संवेदना অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। কোনো আইনই সমাজকে পরিপূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না, যদি না প্রতিটি মানুষ নিজের নৈতিক জায়গা থেকে সচেতন হয়। অপরাধ দমনের চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি করা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ঘর থেকেই যদি সহমর্মিতা ও নৈতিকতার পাঠ শুরু না হয়, তবে বাইরের কোনো কঠোর আইন দিয়ে এই অবক্ষয় ঠেকানো অসম্ভব।