দেশে বাড়তে থাকা হামের প্রকোপ এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে রাজধানীর শ্যামলী শিশু হাসপাতাল ও আসাদগেটের একটি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকালে তিনি জনদুর্ভোগের এই চিত্রগুলো সরেজমিনে দেখেন এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন।
বর্তমান সময়ে দেশের স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতের যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিজ চোখে দেখতে আজ শনিবার সকাল ১১টায় শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে উপস্থিত হন ডা. শফিকুর রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে টিকার অব্যবস্থাপনার কারণে দেশজুড়ে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার যে খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তার বাস্তব চিত্র তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে আলাপকালে তিনি রোগীদের বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসার মান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি অসুস্থ শিশুদের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সমস্যার কথাগুলো অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতার সাথে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব, যা বর্তমানে নানা সংকটের মুখে পড়েছে।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি চলে যান রাজধানীর আসাদগেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে (জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্র)। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে, তা তিনি সেখানে উপস্থিত গ্রাহকদের সাথে কথা বলে অনুভব করার চেষ্টা করেন। সাধারণ যানবাহন চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা তাদের চরম দুর্ভোগের কথা বিরোধীদলীয় নেতার সামনে তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান এ সময় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিগত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মাঠপর্যায়ে মানুষের সাথে সরাসরি এই জনসংযোগ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের সাথে এই নিবিড় যোগাযোগ সংকটের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে বলে দলীয় সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।
একজন জননেতার প্রধান কাজই হলো সংকটের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা। হাসপাতাল ও পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান মূলত সরকারের কাছে স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতের বাস্তব সংকটের চিত্রটি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। কেবল আশ্বাস নয়, বরং মাঠপর্যায়ের এই অভিজ্ঞতাগুলো যদি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলে, তবেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হওয়া সম্ভব।