গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে বর্তমানে চীনের বেইজিংয়ে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব ভেরিফায়েড (সত্যতা নিশ্চিতকৃত) ফেসবুক পেজে এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবিটিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার আন্তরিক করমর্দন ও কুশল বিনিময়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি শেয়ার (ভাগ) করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবির ক্যাপশনে (শিরোনামে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়।’ ছবিটি পোস্ট করার পর মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এই সাক্ষাৎ ঘটে। এর আগে সকালে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত দেশটির বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় এক গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সামরিক বিউগলে অত্যন্ত করুণ ও শ্রদ্ধার সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঐতিহাসিক এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
একই সঙ্গে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাগণ এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় মৈত্রী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছেও ইতিবাচকভাবে পৌঁছেছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।