পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সেখানে পৌঁছানোর পর এখন পর্যন্ত মোট ১৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত মোট ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৫টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইটগুলো চলমান থাকবে।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশেষ শুক্রবার টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মো. এ মজিদ মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে দেখা যায়, মক্কায় ১১ জন এবং মদিনায় ৪ জন হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন।
পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজের পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
সৌদি আরবে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। হজ শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং তা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তাদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় নিয়মিত তদারকি করছে।
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ হজযাত্রীরা যেন দীর্ঘ পথ চলার সময় এবং অতিরিক্ত গরমের মধ্যে নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকেন, সে বিষয়ে হজ এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হজ সম্পন্ন করাই বর্তমান কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য।
হজ পালনের যাত্রা যেমন আধ্যাত্মিক প্রশান্তির, তেমনি এটি শারীরিক সক্ষমতারও পরীক্ষা। প্রতি বছরই অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ হজযাত্রী প্রচণ্ড গরম ও ধকল সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেন। এটি আমাদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে—হজযাত্রার আগে শারীরিক ফিটনেস বা সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং আবহাওয়া অনুকূলে রেখে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া কতটা জরুরি। আমরা আশা করব, বাকি হজযাত্রীরা যেন সচেতনতার সাথে তাদের পবিত্র সফর সম্পন্ন করে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।