প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও সৃজনশীল শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রদর্শনী স্টল (প্রদর্শনী কেন্দ্র) পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচির বিভিন্ন স্টলে নিজ নিজ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব দক্ষতায় আঁকা চিত্রকর্ম, নানা ধরনের হস্তশিল্প ও কাগজ দিয়ে তৈরি আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন নিদর্শন প্রধানমন্ত্রী ও অভ্যাগতদের সামনে প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদর্শনী কক্ষের প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। একটি স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছ তোমরা?’ এ সময় শিশুদের হাতে তৈরি চমৎকার সব কুটিরশিল্প দেখে তিনি প্রশংসা করেন এবং জানতে চান এগুলো তারা নিজেরা তৈরি করেছে কি না। শিক্ষার্থীরা সানন্দে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রদর্শনী চলাকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও তাদের বিনোদনের জন্য খেলার সামগ্রীর ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। এ সময় শিক্ষকরা খেলার মাধ্যমে শিক্ষা তথা ‘আনন্দ শিক্ষা’ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল শিক্ষা’ (তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা) কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল খেলাধুলার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী এটিকে অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন।
পরিদর্শনকালে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার অবতারণা হয়, যখন এক শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে জানায়, তারা প্রতিদিনের টিফিনের (দুপুরের হালকা খাবার) টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যালয়ের অসচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করে থাকে এবং সবাই একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করে নেয়। কোমলমতি শিশুদের এই পরোপকারী মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের এই ভালো কাজ অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন।
সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, বিদ্যালয়কে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং সেটির সঠিক পরিচর্যা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিশুদের তৈরি একটি বিশেষ ‘পকেট লাইব্রেরি’ (ছোট আকারের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার) দেখে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত হন। এই লাইব্রেরির মাধ্যমে শ্রেণিবিন্যাস করে সাজিয়ে রাখা বই থেকে শিশুরা স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দের বই সংগ্রহ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এই সৃজনশীল ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই একটি টবে গাছের চারা রোপণ করেন, যা পরবর্তীতে স্মারক হিসেবে বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হবে। শেষে তিনি শিশুদের আবদার মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে স্মৃতিময় আলোকচিত্রে অংশ নেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই পরিদর্শন কার্যক্রম বেলা সাড়ে ১১টায় শেষ হয়।